কোম্পানীগঞ্জের রাস্তার মাথায় সন্ত্রাসী হামলায় ৬ জন আহত

 

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রাস্তারমাথা বাজার সংলগ্ন নাজিরহাট হাসপাতাল রোডে সন্ত্রাসী হামলায় ৬ জন আহত। গত ১৭ এপ্রিল রাত ৯টায় এ ঘটনা ঘটে।

সারা বিশ্বের মানুষ নভেল করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে রয়েছে বর্তমানে । সারাদেশে লক ডাউন ঘোষনা করেছে সরকার । কিন্তু সরকার ঘোষিত লক ডাউনের তোয়াঙ্কা করে সন্ত্রাসীরা এখনো জুয়ার আসর বসায় । অব্যাহত রেখেছে অবৈধ মাদক ব্যাবসা।সামাজিক অবক্ষয় কতটা হলে সন্ত্রাসীরা তা ঘটতে পারে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে এলাকাটি ইয়াবা, মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের দখলে। এখানে সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। এলাকায় ইয়াবা, মাদক, জুয়ার আসর, চাঁদাবাজি সহ অন্যান্য অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত একটি গোষ্ঠী। এমন চিত্র এখানকার দৈনন্দিন চিত্র।

দলবদ্ধ এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে এনামলু হক চৌধুরী উরূপে এনাম আমিন (৬০) এর নিকট বিভিন্ন ভাবে চাঁদা দাবি করে আসছে। এনাম আমিন তাদের কর্মকান্ডের প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় এতে সন্ত্রাসীরা তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। গত ১৭ এপ্রিল দিবাগত রাত ৯ টার দিকে সন্ত্রাসীরা এনাম আমিন বাড়ির সামনে জুয়ার আসর বসায়। এনাম আমিন এর প্রতিবাদ করলে তার কিছুক্ষণ পর ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এনাম আমিন বাড়িতে হামলা করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় এনাম আমিন (৬০), মেজো ছেলে আল মাহমুদ মিনাজ (২৩), মিনাজের স্ত্রী নুসরাত জাহান (১৮), চৌধুরী আলম , চৌধুরী আলমের স্ত্রী গুরুতর ভাবে আহত হয়। এনাম আমিন এবং তার মেজো ছেলে আল মাহমুদ মিনাজ কে মেরে ফেলার জন্য উদ্বত হয়। এ সময় তারা মিনাজের ২ মাসের অন্তঃসত্বা স্ত্রী নুসরাত জাহানকে মারাতত্বকভাবে আহত করে। হামলার পর তারা ২০ ভরি সোনা, নগদ ২ লক্ষ টাকা, ৩টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। ঘটনার পর আহতদেরকে এলাকার লোকজন এসে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক নোয়াখালী জেলা হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেয়। একই দিন রাত ১0 টায় কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশের কর্তব্যরত সহঃ উপ-পরিদর্শক ঘটনার স্থান পরিদর্শন করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলায় যারা অংশগ্রহন করে, আবুল হাসনাত মানিক মিয়া (৪০) পিতা মৃত আবলু কাসেম। মোঃ সুমন মিয়া (৩০) পিতা মৃত আবলু কাসেম। সুরুজ (২৫) পিতা শহীদ উল্যাহ। মোঃ সাগর (২১) পিতা ফরহাদ হোসেন। মোঃ বাদশা মিয়া (২৫) পিতা আবলু কাসেম। রায়হান (২২) পিতা বাহার মিয়া। আবুল কালাম উরূপে কালু টোকাই (২৩) পিতা বাহার মিয়া । ইলিয়াছ (৪৫) মোঃ মোস্তফা। মিলন (২৩) পিতা জসিম উদ্দিন। এছাড়াও আরো অজ্ঞাত নামা ১০ জন সন্ত্রাসী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা জানা যায়।

সন্ত্রাসীরা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়, এলাকায় আইন শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। প্রায় সময় এখানে ছিনতাই, চাঁদাবাজির মত ঘটনা ঘটছে। প্রতিনিয়ত মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

 

পাঠকের মন্তব্য