চৌমুহনীতে তথ্য গোপন করে দোকান কর্মচারীকে সৎকার, সহকর্মী দুই ভাই’র দেহে করোনা শনাক্ত

নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর তথ্য গোপন করে আশিক সাহা নামের এক দোকান কর্মচারীকে সৎকার করার খবরে পুরো চৌমুহনীতে আতংক বিরাজ করছে। ওই ব্যাক্তির সংস্পর্শে থাকা সহকর্মী অপর দুই ভাইয়ের নমুনা পরীক্ষার পর করোনা পজিটিভ সনাক্ত হওয়ায় শনিবার এই আতংক আরো ছড়িয়ে পড়ে। 

মারা যাওয়া আশিকসাহা এবং আক্রান্ত তাঁর দুই সহকর্মী চৌমুহনীর কালিতলা রোডের মেসার্স গগণ সাহা নামের একটি পুরাতন ভুষা মালের আড়তের কর্মচারী। চৌমুহনীতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের জন্য ব্যস্ততম কালিতলা রোড়ে অসংখ্য আড়ত ও ছোট দোকান রয়েছে। রমজান উপলক্ষ্যে কেনাকাটায়ও ছিলো ভিড়। অথচ পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন এবং ব্যাবসায়ী নেতৃবৃন্দের একধরণের লুকোচুরির কারণে ঝুঁকিতে পড়েছে চৌমুহনীর ব্যাবসায়ী, শ্রমিক এবং চৌমুহনীতে বাজার করতে আসা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ ক্রেতারা।

মারা যাওয়া আশিক সাহার বাড়ি সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া এবং আক্রান্ত দুই জনের বাড়ি কুমিল্লার দক্ষিণ লাকসামের পৌর শহরে। তারা দুইজনের ভাই। আক্রান্তদের বিষয়টি শনিবার সকাল ১১ টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গগন সাহার দোকানের কর্মচারী  দুই সহোদরের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার তথ্যটি লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করার কথা স্বীকার করে  বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসীম কুমার দাস।

তিনি জানা, গগন সাহার দোকানের কর্মচারি আশিক সাহা করোনার উপসর্গ নিয়ে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসাপাতালে ফু¬ কর্ণারে ভর্তি ছিল। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যান। কিন্তু মারা যাওয়ার তথ্যটি গোপন করে তড়িগড়ি করে  দোকান মালিক রাজন সাহা ও তার আতœীয় স্বজনরা আশিক সাহাকে  সোনাপুর মহাশ্মসানে সৎকার করে ফেলেন। বিষয়টি তিনি (ডাঃ অসীম কুমার দাস) জানতে পেরে রাতে স্থাণীয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। এবং পরদিন গগন সাহা দোকানের মালিক রাজন সাহাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চট্রগ্রামে পাঠানো হয়েছে। এখনো সে নমুনার  রিপোর্ট তাদের হাতে  এসে পৌছেনি। 

 

তিনি আরো জানান, গগন সাহা দোকানের কর্মচারী আশিক সাহা মারা যাওয়ার আটদিন আগে দোকান মালিক রাজন সাহা অসুস্থবোধ করায় প্রথমে এক ভাইকে ছুটি দিয়ে দেন। পরবর্তীতে ২২ এপ্রিল আরো একজনকে  ছুটি দিয়ে গ্রামের বাড়ি লাকসামে  পাঠিয়ে দেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সহকর্মীর সংস্পর্শে থাকার দুই ভাই তাদের গ্রামের বাড়িতে আসার খবর পেয়ে  লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের  নমুনা সংগ্রহ করেছিল। বর্তমানে তাদের বাড়ি লকডাউনে আছে এবং পরিবারের অন্যদেরও নমুনা সংগ্রহ করা হবে। 

এদিকে তথ্য গোপন করে দোকান কর্মচারীর সৎকার করার ঘটনা স্থাণীয় প্রশাসন জানার পরও সার্বিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকির কথা চিন্তা না করে  শুধুমাত্র দোকানের মালিক রাজন সাহাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয় কিন্তু দোকানটি বন্ধ করা হয়নি। এবং এই সড়কের অন্যান্য দোকানেও কোন কার্যকর ব্যাবস্থা না নেয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার করে। 

চৌমুহনীর ব্যবসায়দের অভিযোগ- করনোর সংক্রম এড়াতে নোয়খালীতে লকডাউন চললেও চৌমুহনী বাজারের উক্ত কালিতলা রোড ও আশপাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত পাইকারী ও খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম হচ্ছে। এছাড়া দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে মালামাল বোঝাই গাড়ি আসছে, এতে করে প্রতিটি দোকানে মাল লোড আনলোড করতে যাওয়া আসা করে শ্রমিকরা। অথচ; ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই, নেই প্রশাসনের নজরদারিও। এ ঘটনা জানার পর ক্রতো, ব্যাবসায়ী, শ্রমিকসহ সকলের মাঝে চরম আতংক বিরাজ করছে। 

 

পাঠকের মন্তব্য