যারা এখনো করোনায় আক্রান্ত হন নি তাদের জন্য করনীয় - ডাঃ ফজলে এলাহী খাঁন

নোয়াখালী টিভি : বিশ্বব্যাপী করোনার প্রকোপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যে ২০০ টির অধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। বাংলাদেশেও করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলেছে।ইতিমধ্যে প্রায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ছুঁই ছুঁই। এমন পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে সকলেই এর প্রতিষেধকের জন্য অপেক্ষায়।এমন পরিস্থিতিতে যারা এখনো কোভিড-১৯ বা নোভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হোন নি, তারা স্বাস্থ্য বিধির সাথে নিচের নিয়ম গুলো ও মেনে চলতে পারেন। যার ফলে কোভিড-১৯ বা নোভেল করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। এছাড়া আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রনীত গাইডলাইনের পাশাপাশি কিছু করনীয় উল্লেখ করা হল।

যারা আক্রান্ত হননি তাদের জন্য:  

১. সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
২. সূর্য ওঠার পূর্বেই ঘুম থেকে ও।
৩. ঘুম থেকে ওঠার পর পরই মলমূত্র ত্যাগের অভ্যাস করা।
৪. পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে প্রার্থনা করা।
৫. খালি পেটে ১ গ্লাস পানি পান করতে পার।
৬. সকাল বেলা মধু লেবুর শরবত/চিনি মুক্ত গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন।
৭. সূর্য স্নান অর্থাৎ খালি গায়ে কিছুটা সময় সকাল বেলা সূর্যালোকে দাঁড়ানো। এতে ভিটামিন ডি শরীরে বৃদ্ধি পাবে। রোগ-প্রতিরোধে ভিটামিন ডি খুবই প্রয়োজন।
৮. ৩০ মিনিট যোগাসন, প্রাণায়ম বা মেডিটেশন করতে পারেন অথবা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। এক্ষেত্রে লকডাউনের মধ্যে বাসার কাজে সহায়তা করতে পারেন।
৯. ধুমপান, মদ্যপান না করা
১০. পর্যাপ্ত ঘুম (৬ -৮ ঘণ্টা) প্রয়োজন
১১. অতিরিক্ত রাত না জাগা
১২. দুশ্চিন্তা পরিহার করা
১৩. সময়ের প্রতি যত্নশীল ও মনে প্রাণে আদর্শবান হওয়া


রোগ প্রতিরোধে খাদ্য উপাদান ও বিধি-নিষেধ:

১. পচা-বাসি খাবার পরিহার করা, গরম গরম খাবার খাওয়া।
২. প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমান মতো আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্য অন্তর্ভূক্ত রাখা।
৩. পূর্বের খাদ্য হজম হলে পরবর্তী খাদ্য গ্রহণ করা, একবারে অতিরিক্ত পেট পুরে খাবার না খাওয়া
৪. অতিদ্রুত বা অতি ধীরে খাদ্য গ্রহণ না করা।
৫. খাবার খাওয়ার সময় মনোযোগ সহকারে খাওয়া, হাশি-তামাশা না করা
৬. খাবারে হলুদ, জিরা, ধনিয়া ও রসুনের আধিক্য রাখা।
৭. সকল ধরনের ফল গ্রহণ করা যায়। তবে লেবু, পেয়ারা, ডালিম, আনারস ও আম এই পাঁচটি দেশীয় ফল বেশি করে খাওয়া। রোগ-প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি, সি, এ, ই ও খনিজ উপাদান এ পাঁচটি ফলে প্রচুর পরিমান রয়েছে এবং এগুলো এ ঋতুতে পর্যাপ্ত পাওয়া যায়।
৮. পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি খাওয়া; তার মধ্যে পালংশাক, টমেটো, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, কাচা মরিচ ও আদা খাদ্য তালিকায় বেশি রাখা।
 

রোগ-প্রতিরোধে ভেষজ উপাদান:
• হার্বাল টি: তুলসি, দারুচিনি, গোল-মরিচ, লবঙ্গ, কালোজিরা, আদাসহ চিনিমুক্ত গ্রিন টি তৈরি করে সকালে খাওয়া
• প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১০ গ্রাম পরিমাণ চ্যাবনপ্রাশ (বাজারে পাওয়া যায়) হালকা গরম পানি দিয়ে খাওয়া
• আমলকির রস ৫-১০ মি.লি. পরিমান খাওয়া
• বয়স্ক লোক চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ডি ও জিংক ট্যাবলেট গ্রহণ করতে পারেন।
 
যারা কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে আছেন তাদের জন্য পরামর্শ:

• হোম কোয়ারেন্টিনের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা
• উপরোল্লেখিত পরামর্শ মেনে চলা
• অল্প অল্প করে বার বার হালকা গরম পানি পান করা
• হার্বাল টি ও চ্যাবন প্রাশ গ্রহণ করা

জ্বর থাকলে:

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গুলঞ্চ লতা ভিজানো পানি ১৫ মি. লি. পরিমাণ দিনে ৩ বার+ কালোমেঘ চুর্ন ৩ গ্রাম পরিমান পানিসহ দিনে ৩ বার খেতে পারেন।
অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক প্যারাসিটামল গ্রহণ করা যেতে পারে। অথবা অবস্থাভেদে উভয় একত্রেও গ্রহণ করা যেতে পারে।

শুকনো কাশি ও গলা ব্যথা থাকলে:
হালকা গরম পানি ও লবণ দিয়ে গড়গড়া করবেন দিনে ৩/৪ বার
পুদিনা, কালোজিরা ও দারুচিনির গরম বাস্প নাক দিয়ে টানবেন দিনে ২ বার লবঙ্গ ও মধু অথবা আদা চুর্ণ ও গুড়সহ চুষে খাবেন পিপুল, গোল-মরিচ, আদা, জিরা, বাসক পাতা একত্রে সমপরিমান নিয়ে ৪ গুন পানিসহ ঝাল দিয়ে ১ গুন অবশিষ্ট থাকতে নামিয়ে ঠাণ্ড করে দিনে ২/৩ বার খেতে পারেন।

করোনা ভাইরাস হয়েছে সন্দেহ হলে:

দ্রুত টেস্ট করে শনাক্ত করুন এবং অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন।

(বি: দ্র: ওপরের পরামর্শ কোভিড -১৯ এর চিকিৎসা নয়। এটি কেবল রোগ-প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার কৌশল মাত্র, যা ঠাণ্ডা-কাশিসহ যে কোনো রোগের জন্যই উপকারী।)
---------------------
লেখক -
ডাঃ ফজলে এলাহী খাঁন

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান(কিডনী বিভাগ)। আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ,নোয়াখালী।

সাংগঠনিক সম্পাদক,বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশন।

সভাপতি : স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ(স্বাচিপ) নোয়াখালী জেলা শাখা।

পাঠকের মন্তব্য