ফ্রিল্যান্সার নাসির উদ্দিন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভাগ্য বদলালেন নোয়াখালী সোনাইমুড়ীর নাসির উদ্দিন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে ভাগ্য বদলালেন নোয়াখালী সোনাইমুড়ীর নাসির উদ্দিন

নোয়াখালী টিভি : ফ্রিল্যান্সিং। বিষয়টি এখনো অনেকের কাছে অস্পষ্ট, সফলতা তো দূরের কথা। আবার অনেকেই মনে করেন ফ্রিল্যান্সিং মানেই গাদিগাদি টাকা-পয়সা। ফ্রিল্যান্সিং করে স্বল্প সময়ে বড়লোক বনে যাওয়া যায়। ভাবনাটা যদিও অমূলক নয়। তবে ফ্রিল্যান্সিং মানে অধ্যবসায়, ধৈর্য্য ও কঠোর পরিশ্রম। নাসির উদ্দিন ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিয়মিত পরিশ্রম করে এগিয়ে যাচ্ছেন অনন্য উচ্চতায়। নাসির উদ্দিন পড়াশোনা করেছেন মাদ্রাসায়। রেজাল্ট ছিল সর্বোচ্চ। দাখিল ও আলিমে জিপিএ ৫ পান। আলিম পাশ করে রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন উচ্চ শিক্ষার জন্য। ঢাকা কলেজে অনার্সে পড়ালেখার পাশাপাশি নিজে স্বাধীন পেশা হিসেবে বেছে নেন ফ্রিল্যান্সিং। এটাতেই ক্যারিয়ার করবেন বলে পরিকল্পনা করেন। ২০১৯ সালে এসে ‘সিলিকন ভ্যালি’ নামে একটা সাইবার সিকুরিটি কোম্পানিতে ‘হেড অব ডিজেইনার’ হিসেবে কাজ শুরু করেন। সঙ্গে গড়ে তুলেন নিজের ছোট একটা প্রতিষ্ঠান। ‘মনসুন ডিজেইন’ নামের ফ্রিল্যান্সিং কোম্পানিতে ৫ জন ডিজাইনার ও ডেভেলপার বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছেন। যার জন্য উদ্দোক্তা হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালে পেয়েছেন "বেস্ট ফ্রিলেন্সার পুরষ্কার"। নাসিরের শুরুটা হয়েছিল ২০১৫ সালে। প্রথমে ইউআই এবং ইউএক্স ডিজাইন শিখেন। সঙ্গে বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্স কাজের প্লাটফর্ম ‘আপওয়ার্কে’ একটি অ্যাকাউন্টও খুলেন। তবে কাজের শুরুটা হয় আরো অনেক পরে। ২০১৫ সালে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাফিক্স ডিজেইনের উপর একটি কোর্স সম্পন্ন করেন। এছাড়াও কয়েকটি অনলাইন বিশ্ববিদ্ধালয় থেকে ‘ইউজার ইনফেরেস ডিজেইন, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ডিজাইন ও হিউম্যান চেন্টারড ডিজাইন’ উপর কোর্স সম্পন্ন করেন। নাসিরের একসময় স্বপ্ন ছিল আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা অর্জনের। ব্যক্তিগত কিছু কারণে আমেরিকা যাওয়া না হলেও তা নিয়ে আফসোস নেই। স্বাধীনভাবে নিজেকে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করতে পেরেই ধন্য। তার মন এখন শুধু ডিজাইনে ও ঘুরাফেরায়। এখন পর্যন্ত ১৪ টি দেশে ভ্রমণ করেছেন। নাসির নোয়াখালী টিভিকে জানান, সফলতার লক্ষ নিয়েই আমি ফ্রিল্যান্সিংকে বেছে নিয়েছিলাম। যে কারণে মনোযোগ দিয়েই কাজগুলো করতে থাকি। ২০১৭ সাল থেকে ‘আপওয়ার্কে’ কাজ শুরু করি। এই সময়ের মধ্যে নাসির ‘আপওয়ার্ক’ থেকে এক লাখ ডলার আয়ের মাইলফলক পেরিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমার জীবনের প্রথম কাজ ছিল স্পাইনার ইনকর্পোরেশনের ইউআই এবং ইউএক্স ডিজাইনার হিসেবে। এটি একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান। এরপর আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করি। দেশবিদেশের ক্লায়েন্টদের ইউআই এবং ইউএক্স ডিজাইনে সাপোর্ট দিতে একটি দল তৈরি করি যেটি ইতোমধ্যেই দেশে-বিদেশের ক্লায়েন্টদের কাজ অত্যন্ত সফলতার সাথে করে চলছেন। নাসির বলেন, বিদেশের ক্লায়েন্টরা নির্ভুল ও সময়মতো কাজ চান। আমি এতোদিন একাই কাজ করতাম। তবে আমার টি ম কাজ করলে সেটা আরও সৃজনশীল হয়। তখন ক্লায়েন্টও খুশি হয়ে বেশি বেশি কাজ দেন।

পাঠকের মন্তব্য