একজন মানবিক ও সফল অফিসার নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন

নোয়াখালী টিভি : সফলতার গৌরবময় এক বছর! আমাদের নোয়াখালী জেলা পুলিশের সম্মানিত অভিভাবক মাননীয় পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন স্যার।

নোয়াখালী জেলার জনগনের আস্থার কেন্দ্র বর্তমান পুলিশ সুপার নোয়াখালী জেলা মহোদয়, স্যার গত ২১ জুন/২০১৯ খ্রিস্টাব্দ তারিখে নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন, ইতিমধ্যেই স্যারের এক বছর পূর্ণ হলো, স্যার যোগদানের পরপরই জেলা পুলিশের সদস্যদের মনে জায়গা করে নেয়ার পাশাপাশি জেলার জনগণের মধ্যেও আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। 

স্যারের এক বছর পূর্তিতে স্যারের হাজারো গুণাবলী ও সফলতা রয়েছে, কিন্তু আমি ক্ষুদ্র মানুষ হওয়ায় আমার পক্ষে সকল গুণাবলী লিখা সম্ভব নয়, তথাপিও আমার জানা কিছু গুণাবলি না লিখলেই নয়, স্যার প্রথমে যোগদানের পর পরই জেলার প্রতিটি ইউনিটে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কথা শুনেন এবং সমাধান করেন, পাশাপাশি স্যার অধীনস্থ সকল পুলিশ সদস্যদের সততা ও ন্যায় নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। 

স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সর্বদা স্যারের সহায়তা পেয়েছি, আমি মোঃ মাসুম শরীফ জেলা বিশেষ শাখার একজন ক্ষুদ্র কর্মচারী হয়েও আমার দায়িত্বাধীন এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে স্যারের সাথে শেয়ার করা সম্ভব হয়েছে এবং স্যারের তড়িৎ সঠিক সমাধানে শতভাগ জনগণের কল্যাণ হয়েছে, এতে স্যারের প্রতি তথা পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের প্রতি জনগণের বিরূপ ধারণা মুছে গিয়ে পুলিশ হয়ে উঠেছে জনগণের প্রকৃত বন্ধু ও ভালোবাসার প্রতীক। 

স্যার, প্রথমেই পুলিশ লাইন্সের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে আমাদের মনে আনন্দ দিয়েছেন। যে কোন নতুন পুলিশ সদস্য  তথা যে কোন জনসাধারণ পুলিশ লাইন্সের ভিতরে একবার প্রবেশ করলেই পুলিশ সাইন্সের পরিস্কার পরিছন্নতা ও সৌন্দর্যে তার মন কেড়ে নিবে। এছাড়া জেলার প্রতিটি থানায় দেয়ালিকার মাধ্যমে পুলিশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পুলিশ সম্পর্কে নানাবিধ তথ্য মানুষ জানতে পেরেছে । যা সত্যি অসাধারণ।  

স্যার, যোগদানের পর পুলিশ কনস্টেবল  নিয়োগে শতভাগ সততা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, এতে অনেক অসহায় খেটে খাওয়া দিনমজুর ও রিক্সাচালকের সন্তানও চাকুরী পেয়েছেন, যার কারনে প্রথমেই জেলার জনগনের মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্যার, অন্যতম একজন আদর্শবান পুলিশ সুপার, স্যার অধিনস্তদের সাথে সর্বদা ভালো ব্যবহার করেন এবং তাদের সকলের কথা মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং সু-পরামর্শ দেন। এতে স্যারের প্রতি আমাদের ভয়-ভীতি কমে যথানিয়মে নিজের বক্তব্য পেশ করার সাহস যুগিয়েছে। 

স্যার, জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় গুরুতর অভিযোগ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরাসরি অংশগ্রহণও তা নিরোধ করে থাকেন, এতে থানা এলাকার গুরুতর অপরাধ দিন দিন কমে যাচ্ছে এবং  পেশাদার অপরাধীরাও স্যারের কঠোর সিদ্ধান্তে  তাদের অপরাধীর পেশা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে। স্যারের চোখে দলমত কিংবা ধনী-গরিব, রিক্সাচালক'সহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমান। স্যার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বেশে মানুষের মাঝে উপস্থিত হয়ে মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনছেন। স্যার শুধু একজন পুলিশ সুপারইনন! পাশাপাশি অনেক সামাজিক কর্মকান্ডেও স্যার অংশগ্রহণ করছেন এবং অবদান রাখছেন।

স্যার, শীতকালে গরিবদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ, করোনা পরিস্থিতিতে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য করছেন এবং  যা বর্তমানেও বলবৎ  রায়েছে, এছাড়া বেদে পল্লীতে ও হিজরেদেরকেও সাহায্যদান'সহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে স্যারের অবদান রয়েছে। 

স্যারের উপরোক্ত গুণাবলীতে “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ” এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নোয়াখালী জেলার প্রতিটি থানার মানুষের চোখে একজন সৎ, আদর্শবান, ন্যায়নিষ্ঠ ও গরিবের বন্ধু আমাদের মাননীয় পুলিশ সুপার'কে বলতে শুনা যাচ্ছে । যা আমাদের জন্য আনন্দের।  

এ ছাড়াও স্যার বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে অধীনস্ত পুলিশ সদস্যদের শারীরিক খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি সকল সদস্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী এবং এন্টিবডি তৈরীর জন্য ভিটামিন ও অন্যান্য ঔষধ সরবরাহ করেছেন, এছাড়া আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য মৌসুমী ফল সরবরাহ করেছেন, যা সত্যি প্রশংসনীয়। 

স্যার, একজন সৎ ও অন্যায়ের কাছে আপোষহীন এবং কোমল মনের অধিকারী পুলিশ সুপার। স্যারের নির্দেশে প্রতিটি থানার অফিসার অক্লান্ত পরিশ্রম করে থানা এলাকায় মাদক, চাদাঁবাজ, দখলবাজ, ইভটিজার, মিথ্যা মামলায় হয়রানী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে স্যারের নির্দেশে প্রতিটি থানায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে পুলিশের ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসনীয়। যা চলমান রয়েছে। 

আমরা স্যারের মতো একজন সৎ, ন্যায়নিষ্ঠা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠী আওয়াজ তোলা এবং মানবিক পুলিশ সুপার পেয়ে সত্যিই ধন্য।

এত জেলার বিভিন্ন এলাকার উপকারভোগী সচেতন নাগরিকগন বলেতে দেখা গেছে যে, এমন পুলিশ সুপার আমরা আগে কখনো দেখিনি।

আমি আগেই বলেছি যে, স্যারের কাছে দল-মত নির্বিশেষে ধনী-গরিব, রিক্সাচালকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ সমান। একজন নির্যাতিত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল হলো পুলিশ। তাই স্যার এটা মনে প্রানে বিশ্বাস করে প্রথমে তাদের সমস্যা শুনার জন্য স্যারের দরজা সর্বদা খোলা রেখেছেন এবং তাদের সমস্যা শুনে তা নিরসনে থানা এলাকার সংশ্লিষ্ট  অফিসার'কে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।  “পুলিশ জনতার এবং জনতা পুলিশের” এই স্লোগানকে সামনে রেখে এবং সাধারণ মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাস মুক্ত করতে এগিয়ে যাচ্ছেন আমাদের মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয়। স্যারের সুদৃহ নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে নোয়াখালী জেলা পুলিশ। স্যারের  অধীনে একজন সদস্য হিসেবে কাজ করতে পেরে নিজেকেও আজ ধন্য মনে করছি। 

লেখক - নোয়াখালী জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এএসআই মাসুম শরীফ।https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=3144955408945907&id=100002944360604

পাঠকের মন্তব্য