বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে লঙ্গরখানার ১০০তম দিন উৎযাপন

নোয়াখালী টিভি : নোয়াখালীর চৌমুহনীতে লঙ্গরখানার শততম দিবসে ছিন্নমূল মানুষের জন্য ভোজের আয়োজন করেছে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। আজ বুধবার দুপুরে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী রেলওয়ে স্টেশনে স্থাপিত লঙ্গরখানায় শততম দিবস উপলক্ষে প্রায় তিন শতাধিক অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে এই খাবার বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের সদস্যরা। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মাহবুব আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব ওমর ফারুক বাদশা, চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র জনাব আখতার হোসেন ফয়সাল, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর হোসেন মাসুদ, উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ব্যক্তিবর্গ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মাহবুব আলম জানান, করোনাকালীন সংকটের শুরু থেকেই লঙ্গরখানা স্থাপনের মাধ্যমে আমরা অসহায় ছিন্নমূল মানুষের জন্য যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছি তারই শততম দিবস আজ অতিবাহিত হতে যাচ্ছে।আগামীতেও আমরা যতদিন মনে করবো এই কার্যক্রমটি পরিচালনা করা প্রয়োজন ততদিন পর্যন্ত লঙ্গরখানায় অসহায় ছিন্নমূল মানুষের জন্য তা অব্যাহত থাকবে। অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব ওমর ফারুক বাদশা জানান, আমরা বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় এই কার্যক্রমের শততম দিবস পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। আগামীতেও তা চলমান রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের আহ্বায়ক মুনীম ফয়সাল বলেন, লঙ্গরখানার শততম দিন আজ। এটি এতোটাই আনন্দের যা ভাবতেই অবাক লাগছে। ঠিক একশো দিন আগে (০৩ এপ্রিল) ইউএনও মাহবুব আলম এর নিকট লঙ্গরখানার উদ্দেশ্যের বিষয়টি জানাই। তিনি পুরো বিষয়টি শুনেন এবং আমাদের কে আশ্বস্ত করেন। আমাদের ফান্ড প্রায় শেষ হয়ে আসলে তিনি বলেন সমস্যা নাই, তোমরা শুরু করো। তোমাদের ফান্ড যেখানে গিয়ে শেষ হবে সেখান থেকে আমি তোমাদের ফান্ডিং করবো। তাই আমি মনে করি, উপজেলা প্রশাসন যদি না থাকতো তবে হয়তো লঙ্গরখানা দুই দিনের মধ্যেই থেমে যেতো। আমাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, এই একশো দিনে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিলো। অনেকের বিপত্তি ছিলো। কিন্তু সব ছাপিয়ে তৃপ্তি ছিলো বেশি। অসহায় মানুষদের সাথে খাবার শেয়ারের আনন্দ ছিলো অপরিসীম। লঙ্গরখানায় উপজেলার পাশাপাশি ফান্ডিংয়ে যারা এগিয়ে এসেছেন সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বিশেষ করে লঙ্গরখানার স্বেচ্ছাসেবীদের পরিশ্রমের বিকল্প ছিল না এই আয়োজনে। তারই পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

পাঠকের মন্তব্য