লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেকে মারধর করে ২ লাখ টাকা ছিনতাই

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তার ছেলেকে মারধর করে নগদ ২ লাখ টাকা ও ২টি স্মার্টফোন ছিনতাই করেছে স্থানীয় একটি চাঁদাবাজ চক্র। এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চল চন্দ্রগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন। এরআগে গত রবিবার বিকেলে সদর উপজেলার দিঘলী সানকিভাঙা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

জামাল উপজেলার দিঘলী পশ্চিম জাফরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি পেশায় একজন নির্মাণ ঠিকাদার। তার ছেলে আহত সাইফুল ইসলাম (১৯) ও রাসেল ইসলাম (১৮)। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামাল উদ্দিন গত রবিবার বিকেলে উপজেলার হাজিরপাড়া এলাকা থেকে ঠিকাদারি কাজের নগদ ২ লাখ টাকাসহ দুই ছেলেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে উপজেলার দিঘলী সানকিভাঙা এলাকায় তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র। পরে জামালের ছেলে সাইফুল ও রাসেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে নগদ ২ লাখ টাকা ও ২টি স্মার্টফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজ চক্রের মূলহোতা উপজেলার নুরুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা ও চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগ নেতা মাকছুদুল হাছান রোমান। তার নেতৃত্বে স্থানীয় বখাটে আনোয়ার, রবিন ও আরিফসহ ১০-১২ জনের একটি চক্র হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটায়।

আরও জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা রোমান ও তার অনুসারীরা গত কয়েক মাস আগে আওয়ামী লীগ নেতা জামালের ঠিকাদারি কাজে বাধা দিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে দিঘলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা বিষয়টি জানতে পেরে উভয় পক্ষের মধ্যে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা করে দেন। কিন্তু এরপরও চাঁদাবাজরা জামালের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল। গত রবিবার বিকেলে তারা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটায়।

এদিকে ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন বলেন, আমি আওয়ামী লীগ করি তবে কাজ করে টাকা উপার্জন করি। কিন্তু রোমান ও রবিনসহ চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে। তারা আমার ছেলেদের মারধর করে নগদ ২ লাখ টাকা ও ২টি স্মার্টফোন ছিনতাই করেছে। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মাকছুদুল হাছান রোমান চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগটি অস্বীকার করেন। আওয়ামী লীগ নেতা জামালের সঙ্গে তার পূর্ব শত্রুতা নেই বলেও জানিয়েছেন।

দিঘলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জামাল খেটে খাওয়া মানুষ। গত কয়েক মাস আগে তার কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতা রোমানের চাঁদা দাবির ঘটনাটি জানতে পেরে আমরা স্থানীয়ভাবে সমঝোতা করে দেই। কিন্তু এরপরও হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।
 

পাঠকের মন্তব্য