সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে “নোয়াখালী সাইবার ওয়ারিয়র্স টিম”

নোয়াখালী টিভি : নোয়াখালীতে সাইবার ক্রাইম অপরাধ দমনে বেসরকারি সেচ্চাসেবী সংগঠন “সাইবার ওয়ারিয়র্স” টিম কাজ করে যাচ্ছে। সাইবার হ্যারেজমেন্ট ও ব্ল্যাকমেইলের মত সোস্যাল মিড়িয়াতে প্রতারণা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারাদেশের মতো যা নোয়াখালীতেও ছড়িয়ে যাচ্ছে শহর থেকে গ্রামে। এ সকল অপরাধ দমনে সহযোগিতা করছে এ সেচ্ছাসেবী সংগঠনটি । গত কয়েকমাস আগে “সাইবার ওয়ারিয়র্স’- এ নামে একটি টিম প্রতিষ্ঠা করে নোয়াখালীর কয়েকজন উদীয়মান তরুণ। এসব সাইবার কর্মীরা যৌথভাবে অনলাইনে সাইবার হ্যারেজমেন্ট থেকে সবাইকে রক্ষা করতে কাজ করে যাচ্ছে। কাদের মধ্যে অন্যতম সাইদুর রহমান, রাসেল,ফখরুল ইসলাম নিরব, এমাজ উদ্দিন রাসেল।

তারা জানান, যেকোনো সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন না করলে সমাধান মিলবে না। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে যারা সাইবার অপরাধ দমনে অভিজ্ঞতা আছে এমন একঝাঁক তরুণ, মেধাবী ও দক্ষ একটি দল নিয়ে নোয়াখালী সাইবার ওয়ারিয়র্স’ গঠন করা হয়েছে। এ কাজ গুলো কোনো বিনিময় ছাড়া মানুষকে মানবসেবায় সহযোগীতা করা। এতে করে মানুষ যেমন সচেতন হবে তেমনিভাবে জেলাতে অপরাধ কার্যক্রম কমবে। টিমের অন্যতম উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান বলেন, আমরা শুধু সেবাই দিচ্ছি না বরং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নেও বিশাল এক নেটওয়ার্ক ভিত্তিক টিম তৈরীতে কাজ করছি। আশা করি খুব শীঘ্রই ‘নিরাপদ সাইবার অঞ্চল’ হিসেবে নোয়াখালী স্বীকৃতি পাবে। এ লক্ষ্যেই আমাদের পথ চলা। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাইবার অপরাধ দূর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগীতা করা, সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সাইবার অপরাধ কমিয়ে আনা।

“‘নিরাপদ সাইবার, নিরাপদ নোয়াখালী ” এ স্লোগান হৃদয়ে লালন করে চলতি বছরের ২০ আগষ্ট এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সংগঠনের মূলনীতিগুলো হল, সেবা, সচেতনতা, নিরপেক্ষতা, একতা ও সার্বজনীনতা। সংগঠনটি যে সব কার্যক্রম করে থাকে তা হল- সাইবার অপরাধের শিকার যেকোনো মানুষ সহযোগিতা করা। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সাইবার নিরাপত্তা প্রদান অন্যতম। নোয়াখালীর অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ভার্চুয়াল কার্যক্রম সম্পাদন করে। এসময় যাতে তারা বিভিন্ন ফাঁদে পড়ে ব্ল্যাকমেইল বা প্রতারণার শিকার না হয় সেজন্য সংগঠনিট সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের জন্য সংগঠনটি একটি দক্ষ জনবল তৈরি করছে চলেছে, যাতে যেকোনো সময় যে কাউকে যেন দ্রুত সেবা প্রদান করা যায় । এছাড়া অনলাইনে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, বুলিং এবং হ্যাকিং এর শিকার হলে কিভাবে আইনি পদক্ষেপ নিবে তা বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে সকলকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং সচেতনতার জন্য প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

এ পর্যন্ত এ সংগঠনটি বিভিন্ন সেলিব্রেটির নামে একাধিক ফেক সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। ধর্মীয় বিদ্বেয় ছড়ায় এমন কয়েকটি গ্রুপ আমরা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি বলে জানান তারা। কুসংস্কার এবং মাদকের প্রচার করে এমন পেজ এবং গ্রুপ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানান সংগঠনের সদস্য্যরা সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমকামিতা দিন দিন বাড়ছে বলে সমকামিতার উৎসাহ দাতাদের গ্রুপ, পেইজ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে সংগঠনটি। গত ১ মাসে ৩২ জন সাধারণ জনগণের ফেসবুক একাউন্ট রিকোভারি ও তাদের নামে ফেইক একাউন্ট গুলো বন্ধ করা হয়েছে । এছাড়াও গত ১ মাসে ৫ শতাধিক এডাল্ট একাউন্ট বন্ধ করার সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্যরা ৷

পাঠকের মন্তব্য